শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
নিষিদ্ধ পলিথিন বাজারে, নজরদারি কোথায় প্রশাসনের?
গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
নিষিদ্ধ পলিথিন আবারো ফিরে এসেছে পুরোনো দাপটে। প্রতিদিন বাজারে গেলে চোখে পড়ে পরিচিত এক চিত্র—কেউ খালি হাতে বাজারে যাচ্ছে, ফিরছে পলিথিন ব্যাগ ভর্তি করে। আর এই দৃশ্য এখন যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও যেন কারও কিছু আসে যায় না। অল্প কিছুদিন আগে পর্যন্তও পলিথিন নিষিদ্ধের দাবিতে কিছুটা আলোড়ন দেখা গেলেও এখন সে শব্দ থেমে গেছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে, অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হওয়ায়, পলিথিন ব্যাগ এখন খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে শহরের বাজারে, ফুটপাতে, দোকানের গলিতে।
বর্ষা আসলেই এই পলিথিনের আসল ক্ষতির চিত্র ধরা দেয়। বৃষ্টির পানি ড্রেনে নামতে না পেরে জমে থাকে, কারণ ড্রেন গুলো পলিথিনে ঠাসা। এর ফলেই শুরু হয় জলাবদ্ধতা, যার প্রভাব পড়ে রাস্তাঘাট, যান চলাচল ও সাধারণ জনজীবনে। অথচ এই পলিথিন এক সময় নিষিদ্ধ হয়েছিল পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে। কিন্তু সে নিষেধাজ্ঞা যেন এখন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
পলিথিন ব্যাগ শুধু জলাবদ্ধতার কারণই নয়, এটি পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম হাতিয়ার। স্বাভাবিকভাবে পলিথিন পঁচে না, বছরের পর বছর ধরে এটি মাটির নিচে অবিকৃত অবস্থায় থেকে যায়। এতে করে মাটির উর্বরতা কমে যায়, পরিবর্তন হয় মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ। যখন এই পলিথিন পোড়ানো হয়, তখন তৈরি হয় বিষাক্ত গ্যাস—পলিভিনাইল ক্লোরাইড থেকে কার্বন মনোক্সাইড, যা বাতাসকে করে তোলে দূষিত। ফলে তা সরাসরি মানুষের শ্বাসযন্ত্রে প্রভাব ফেলে।
শুধু স্থলভাগেই নয়, পলিথিনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে নদী-নালা, খাল-বিল ও সমুদ্র পর্যন্ত। ‘নারডল’ নামে এক ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য পানিতে মিশে নষ্ট করছে সামুদ্রিক পরিবেশ, বিপন্ন করে তুলছে মাছসহ অসংখ্য জলজ প্রাণীর জীবন। সেই মাছ আবার ফিরছে আমাদের খাবারের টেবিলে, আর মাছের পেটে থাকা প্লাস্টিক আমাদের শরীরের মধ্যেও ঢুকে পড়ছে। যার ফল হতে পারে চর্মরোগ, এমনকি মারণব্যাধি ক্যান্সার পর্যন্ত।
দেশজুড়ে যেখানে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে, সেখানে পলিথিনের ব্যবহার চলছেই অবাধে। একদিকে পরিবেশ, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য—উভয়ই আজ বিপন্ন।
এখনই সময় সচেতন হওয়ার। শুধু আইন করলেই হবে না, সেই আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই হবে। পলিথিন ব্যাগ বর্জন করা প্রয়োজন আজই। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পলিথিনকে ‘না’ বলার এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
প্লাস্টিকমুক্ত ভবিষ্যতের জন্য হোক সোচ্চার আজকের কণ্ঠ—পলিথিন নয়, বিকল্পই হোক নতুন অভ্যাস।